দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালের হিজলা উপজেলা-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন (৪০) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জেলের সহকর্মীদের দাবি, চাঁদপুর নৌ পুলিশের একটি অভিযানকারী দলের ছোড়া রাবার বুলেটে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে চাঁদপুর নৌ পুলিশ। অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
নিহত আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। তাঁর চার মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে মো. আব্দুল বেপারী বলেন, তাঁরা ১৩ জন একটি ট্রলারে করে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। তীর থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা যাওয়ার পর হিজলার গৌরবদী ইউনিয়নের ওরাকুল মাছঘর-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে নৌ পুলিশের একটি ট্রলার তাঁদের কাছে আসে। এ সময় আকস্মিকভাবে রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এতে আকতার হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত আকতারকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আব্দুল বেপারীর দাবি, গুলি ছোড়ার পরপরই কিছুটা দূরে আরেকটি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায় নৌ পুলিশের একটি দল। তাঁদের চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ কারণে তাঁর ধারণা, গুলি ছোড়া দলটিও চাঁদপুর নৌ পুলিশের ছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চাঁদপুর নৌ পুলিশের সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, বরিশালের হিজলা তাঁদের আওতাধীন এলাকা নয়। তাই সেখানে তাঁদের অভিযান চালানোর প্রশ্নই আসে না। ওই ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাঁকে মেঘনা নদীতে একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত জেলেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। খবর পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মেঘনা নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো অভিযানকারী দল ওই সময় নদীতে ছিল না। অন্য কোনো জেলার অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন বলেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত জেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএম